Most Recent Post
Home / সারাদেশ / ডিমলায় কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে প্রশিক্ষণ কর্মশালা, বিনামূল্যে লবণ বিতরণ

ডিমলায় কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে প্রশিক্ষণ কর্মশালা, বিনামূল্যে লবণ বিতরণ

নীলফামারী প্রতিনিধি:পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিমলায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং বিনামূল্যে লবণ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) বিকেল ৩টায় ডিমলা উপজেলা কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক মো. ইমরানুজ্জামান।

কর্মশালায় ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী কোরবানির পশু জবাই, সঠিকভাবে চামড়া ছাড়ানো, চামড়ায় লবণ প্রয়োগ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

বক্তারা বলেন, কোরবানির পর যথাসময়ে চামড়ায় পর্যাপ্ত লবণ ব্যবহার না করলে দ্রুত তা নষ্ট হয়ে যায়। এতে জাতীয় সম্পদের অপচয়ের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিরও আশঙ্কা থাকে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, “পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চামড়া দেশের একটি মূল্যবান সম্পদ এবং এটি আমাদের অর্থনীতির সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। সামান্য অসচেতনতা কিংবা যথাসময়ে লবণ ব্যবহার না করার কারণে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ চামড়া নষ্ট হয়। এজন্য কোরবানির পর দ্রুত ও সঠিক নিয়মে চামড়া সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কসাই, চামড়া ব্যবসায়ী, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, এ উদ্যোগের মাধ্যমে চামড়ার অপচয় কমবে, গুণগত মান বজায় থাকবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে। পাশাপাশি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে কোরবানি সম্পন্ন করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

বিসিক জেলা কার্যালয়ের ডেপুটি ম্যানেজার নুরেল হক বলেন, “কোরবানির পশুর চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই পশু জবাইয়ের পর দ্রুত চামড়া পরিষ্কার করে পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে চামড়ার ভাঁজ ও চারপাশে ভালোভাবে লবণ লাগানো অত্যন্ত জরুরি। এতে চামড়ার গুণগত মান ঠিক থাকবে এবং বাজারমূল্যও ভালো পাওয়া যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “কোরবানির সময় পশু জবাই ও চামড়া ছাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত কসাই ব্যবহার করা উচিত। অসাবধানতাবশত চামড়ায় কাটাছেঁড়া হলে এর মান কমে যায়। তাই সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ চামড়া সংরক্ষণে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন করবে বলে আমরা আশা করছি।”

এ সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহিদুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম, ব্যানবেইস কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান, একাডেমিক সুপারভাইজার আমির বোরহানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, মসজিদের ইমাম, কসাই, চামড়া ব্যবসায়ী ও মাদরাসার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালা শেষে চামড়া ব্যবসায়ী ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের মাঝে বিনামূল্যে লবণ বিতরণ করা হয়।

About bdpratinioto

Check Also

আলীনগর সংঘর্ষ, ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজ নিল দিরাই উপজেলা বিএনপি

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের আলীনগর গ্রামে সংঘটিত দু’পক্ষের সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিতে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *