বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত ডেস্ক: ভারতের মণিপুর রাজ্যে যেদিন দুই নারীকে নগ্ন করে ঘোরানো হয়েছিল, সেদিনই রাজ্যে আরও দুই নারীকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়েছে। শনিবার এনডিটিভি অনলাইন এ তথ্য জানিয়েছে।
২১ ও ২৪ বছর বয়সী দুই নারী ৪ মে রাজধানী ইম্ফল পূর্ব জেলার কোনুং মামাং এলাকায় একটি গাড়ি ধোয়ার কাজ করছিলেন। ওই সময় নারীসহ পুরুষদের একটি দল ওই দুই তরুণীকে লাঞ্ছিত করে।
ওই তরুণীদের এক পুরুষ সহকর্মী, যিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন, তিনি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন, হামলকারী দলটির সঙ্গে আসা নারীরা দুই তরুণীকে একটি ঘরে নিয়ে যেতে এবং তাদের যৌন নির্যাতন করতে উৎসাহিত করছিল। দুই তরুণীকে ঘরে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়, লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তারা যাতে চিৎকার করতে না পারে সেজন্য তাদের মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। প্রায় দেড় ঘন্টা এই ভয়াবহ নির্যাতনের পর তাদেরকে বাইরে টেনে নিয়ে আশেপাশের একটি করাতকলের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। নির্যাতনের সময় তাদের চুল তুলে ফেলা হয়েছিল এবং তাদের পুরো শরীর ছিল রক্তাক্ত।
ওই তরুণীদের একজনের মা ১৬ মে সাইকুল থানায় জিরো এফআইআর দায়ের করেন। তাতে বলা হয়, তার মেয়ে এবং অন্য তরুণীকে ‘ধর্ষণ ও নির্মমভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছিল।’
হামলাকারীদের সংখ্যা ১০০ থেকে ২০০ ছিল উল্লেখ করে পুলিশ বলেছে, ওই তরুণীদের ‘মৃতদেহ এখনও উদ্ধার করা হয়নি এবং তাদের হদিসও আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।’
প্রসঙ্গত, গত ৪ মে রাজধানী ইম্ফল থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে কাংপোকপি জেলায় দুই কুকি উপজাতি নারীকে নগ্ন করে ঘোরানো হয়। এ ঘটনার একদিন আগেই উপত্যকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতি এবং কুকি উপজাতির মধ্যে তফসিলি উপজাতি মর্যাদার দাবিতে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল। ভুয়া একটি ভিডিও’র সূত্র ধরে কুকিদের গ্রামে হামলা চালানো হয়েছিল। ওই দুই নারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সংঘর্ষের সময় প্রাণে বাঁচতে জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ওই নারীদের এক জনের ভাইকে হত্যা করে হামলাকারীরা।
Bangladesh Pratinioto news site