ক্রীড়া প্রতিবেদক | হাসিমুখে নাজমুল হোসেন শান্ত বসে আছেন। ঠিক পাশের টেবিলে ঝলমল করছে হিরাখচিত বিপিএলের শিরোপা। মাত্র ঘণ্টাখানেক আগেই দ্বাদশ বিপিএলের শিরোপা জিতেছে তার দল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। অধিনায়ক হিসেবে নিজের শহরের দলকে প্রথমবার বিপিএল চ্যাম্পিয়ন করানোর আনন্দে আবেগে ভাসছেন শান্ত।
রাজশাহীর ছেলে নাজমুল হোসেন শান্ত। এখানকার মাটিতেই তার বেড়ে ওঠা, ক্রিকেটের হাতেখড়ি, শৈশব ও কৈশব। সেই শহরের হয়ে, অধিনায়ক হিসেবে বিপিএলের শিরোপা জেতায় এবারের অর্জনটি তার কাছে বিশেষ কিছু। আবেগ, ভালোবাসা আর একাত্মতার মিশেলে এই শিরোপা হয়ে উঠেছে অনন্য।
শিরোপার পাশে বসে নিজের অনুভূতি জানিয়ে শান্ত বলেন,
“অনেক বেশি আবেগ এখানে জড়িয়ে আছে। আমার রাজশাহীর হয়ে খেলার সুযোগ আগে কখনো হয়নি। রাজশাহীর হয়ে খেলা, অধিনায়ক হিসেবে খেলা এবং দলকে জেতানো—সব মিলিয়ে এটা বাড়তি ভালো লাগার বিষয়। একটা বড় দায়িত্ব ছিল। চেষ্টা করেছি রাজশাহীর মানুষকে একটি সুন্দর টুর্নামেন্ট উপহার দিতে। শেষ পর্যন্ত কাপটা দিতে পেরেছি।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“আমাদের মালিকপক্ষ ও ম্যানেজমেন্ট খুবই সহযোগিতা করেছেন। আশা করি তারাও খুশি। সব মিলিয়ে দারুণ একটা টুর্নামেন্ট কেটেছে।”
পুরো টুর্নামেন্ট নিয়ে শান্তর মূল্যায়ন,
“আমার মনে হয় দারুণ একটা সফর ছিল। দল গঠনের শুরু থেকেই দায়িত্বের কথা বলা হয়েছিল। হান্নান ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করেই আমরা ড্রাফটে গিয়েছি। সিনিয়র-জুনিয়র মিলিয়ে আমাদের কম্বিনেশন খুব ভালো ছিল। দিনশেষে মাঠের ক্রিকেটটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক খেলোয়াড় নিজের জায়গা থেকে ভূমিকা রেখেছে। এই শিরোপার কৃতিত্ব পুরো দলের।”
ফ্র্যাঞ্চাইজির ভূমিকা প্রসঙ্গে শান্ত বলেন,
“পরিবেশ, পরিকল্পনা—সবকিছুতেই আমরা পরিষ্কার ছিলাম। মালিকপক্ষ আমাদের পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। কোনো চাপ ছিল না। এই স্বাধীনতাই আমাদের এতদূর আসতে সাহায্য করেছে।”
বিপিএল নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে শান্ত বলেন,
“আমার মনে হয় এবার ভালো ক্রিকেট হয়েছে। গত বছরের চেয়েও উন্নত। চট্টগ্রামে কিছু ম্যাচ হলে আরও ভালো হতো।”
Bangladesh Pratinioto news site