দেশে বর্তমানে মজুত থাকা প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে আগামী প্রায় ১২ বছর পর্যন্ত জাতীয় চাহিদা পূরণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। রোববার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে উত্তোলনযোগ্য মোট গ্যাসের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৭৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ২২ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অবশিষ্ট মজুত রয়েছে প্রায় ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, দেশে দৈনিক গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এই হারে সরবরাহ অব্যাহত থাকলে এবং নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে বিদ্যমান মজুত দিয়ে প্রায় ১২ বছর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বৃদ্ধির পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-এর আওতায় কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী মোট ৫০ থেকে ১০০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ২৬টি কূপ খনন ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে চলমান রয়েছে।
এছাড়া সাইসমিক জরিপ কার্যক্রম জোরদারের কথাও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত অনুসন্ধান সংস্থা বাপেক্সের মাধ্যমে ব্লক-৭ ও ৯-এ প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক ডাটা সংগ্রহ শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে তা প্রক্রিয়াকরণাধীন। পাশাপাশি বিজিএফসিএলের মাধ্যমে হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে ৩ডি সাইসমিক জরিপ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।
সরকার ভবিষ্যতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার এবং উৎপাদন বাড়াতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও জানান মন্ত্রী।
Bangladesh Pratinioto news site