নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগে সরকারের বিবেচনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শুধু ইসলামিক শিক্ষা নয়, সব ধর্মের অনুভূতিকে প্রাধান্য দিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী এসব জানান।
তিনি বলেন,কুমিল্লা-৬ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বলেন, নবনির্বাচিত সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
মিলন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ও প্রাথমিক শিক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমান সরকারও আবার এই খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার জন্য সরকার ইতোমধ্যেই নির্দেশনা পেয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় সচেতনতা জোরদারের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের একটি প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।’
তবে তিনি জানান, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে, বিশেষ করে কওমি মাদ্রাসা থেকে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের সনদ স্বীকৃতি নিয়ে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, কওমি মাদ্রাসার অনেক শিক্ষার্থী কিরাত (কোরআন তেলাওয়াত) বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হলেও মূলধারার মাদ্রাসা শিক্ষাক্রমে এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত না থাকায়, তাদের সনদ স্বীকৃতির ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘যোগ্য প্রার্থীদের ইসলাম শিক্ষা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে এসব সনদ-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’
আ ন ম এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, ‘ধর্মীয় শিক্ষা শুধু ইসলাম ধর্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।’
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, ‘সব ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’
এর আগে মো. মনিরুল হক চৌধুরী গত ১৫ থেকে ১৭ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি হয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
যদিও এই সময়ে স্কুলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
Bangladesh Pratinioto news site