নিজস্ব প্রতিবেদক:
যাওয়া হলো না হাসিবুল ইসলাম জিহান (১১) এর। নিয়ন্ত্রণহীন লরির চাপায় সড়কেই নিভে গেল তার জীবন প্রদীপ। একই সময়ে গুরুতর আহত হয় তারই সহপাঠী মেহজাবিন আক্তার তানিসা (১১)। তারা দু’জন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ঘোলপাশা ইউনিয়নের আমানগন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সম্পর্কে তারা চাচাতো ভাই-বোন।
শনিবার (০৪ মার্চ) সকালে স্কুলে যাওয়ার সময়ে নিয়ন্ত্রণহীন লরির চাপায় মহাসড়কেই হাসিবুল ইসলাম জিহান মারা যায়। নিহত জিহান একই এলাকার প্রবাসী আবুল হোসেন ও অঞ্জু আক্তার দম্পতির ছেলে বলে জানা গেছে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহাব উদ্দিন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ওসি শাহাব উদ্দিন জানান, শনিবার সকালে নিহত জিহান ও তারই চাচাতো বোন তানিসা পায়ে হেটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওয়াকওয়ে দিয়ে স্কুলে যাচ্ছিলেন। আমানগন্ডা তাকিয়া আমগাছ নামক স্থানে পৌঁছালে পিছন থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখি একটি লরি (চট্ট মেট্রো-ঢ-১১-৪৩৯৮) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের দু’জনকে চাপা দিয়ে মহাসড়কের পাশেই উল্টে পড়ে যায়।
এ সময় লরির নিচে পিস্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই জিহানের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হয় জিহানের চাচাতো বোন তানিসা। সংবাদ পেয়ে চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিহানের লাশ উদ্ধার করে এবং আহত তানিসাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
নিহত জিহানের জেঠাতো ভাই মো. খালেদ জানান, জিহান ও তানিসা অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলো। তারা সব সময়ে একসাথে স্কুলে আসা-যাওয়া করতো। শনিবার সকালে নাস্তা শেষে দু’জন প্রতিদিনের মত একসাথে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়। স্কুলের কাছাকাছি পৌঁছালে পিছন থেকে একটি লরি তাদেরকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে জিহানের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হয় তানিসা। দু’টি পরিবারেই শোকের মাতম বইছে।
মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাব উদ্দিন আরো জানান, দুর্ঘটনা কবলিত লরিটি জব্দ করা হয়েছে। গাড়ির চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে জিহানের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
Bangladesh Pratinioto news site