Most Recent Post
Home / অর্থনীতি / পোস্তায় পশুর চামড়ার জমজমাট বেচাকেনা

পোস্তায় পশুর চামড়ার জমজমাট বেচাকেনা

বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত ডেস্ক: রাজধানীর লালবাগের পোস্তার আড়তগুলোতে কোরবানির পশুর চামড়ার জমজমাট বেচাকেনা চলছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) বিকেল থেকে আড়তগুলোয় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চমড়া আসতে থাকে। শুক্রবার (৩০ জুন) সকালেও চমড়া ভর্তি প্রচুর ট্রাক ও ভ্যান আসতে থাকে।

রাজধানীর বিভিন্ন অলিগলি ও মহল্লা ঘুরে চামড়া সংগ্রহ করে পোস্তায় নিয়ে গিয়েছেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। আড়তদাররা তাদের কাছ থেকে থেকেই চামড়া কেনা শুরু করেন। কেনাবেচা চলবে আরও কয়েকদিন। পোস্তায় কাঁচা চামড়া ওঠা শুরু হতেই আড়তদারদের হাঁকডাকে সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

লালবাগের শায়েস্তা খান ও রাজনারায়ণ ধর রোডসহ আশপাশের বিভিন্ন সড়কে এমন চিত্রই দেখা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাক ও পিকআপভ্যানে চামড়া নিয়ে আসছেন ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা। তাদের কাছ থেকে দরদাম কষে চামড়া কিনছেন আড়তদাররা। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে বিক্রেতাদের চাপ না থাকলেও শেষ বিকেলে জমজমাট হয়ে ওঠে পোস্তার আড়তগুলো। সন্ধ্যার দিকে আড়তদারদের ব্যস্ততা আরও বাড়ে।

তবে গত কয়েক বছর ধরে চামড়ার দর কমে যাওয়ায় মাঠপর্যায়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বেচাবিক্রি কিছুটা কম। তবে দাম কম হওয়ার কারণে কোরবানির পশুর চামড়া সরাসরি মাদরাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বো‌ডিংয়ে দান করেছেন কোরবানিদাতারা।

চামড়া নিয়ে পোস্তা আসা মাওলানা মারুফ হোসেন বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও বেশ ভালো দামে চামড়া বিক্রি করা যেত। বড় গরুর চামড়া প্রতি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পেয়েছি।’

পোস্তার রহিম এন্ড সন্স আড়তের মালিক রহিম মিয়া বলেন, ‘পোস্তায় পুরোদমে চলছে কাঁচা চামড়ার বেচাকেনা। গতরাত গভীর রাত পর্যন্ত চামড়া কেনাবেচা চলে। সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া সংগ্রহের পর প্রথমে লবণজাত করা হচ্ছে। সেসব চামড়া পাঠানো হবে সাভারের ট্যানারিগুলোতে।’
কামাল অ্যান্ড সন্স আড়তের মনির হোসেন বলেন, ‘ঢাকা শহর ও এর আশেপাশের কোরবানির পশুর চামড়া পোস্তায় আসছে। গতকাল দুপুর থেকেই আমরা কাঁচা চামড়া কেনা শুরু করেছি। আজও কেনাবেচা জমে উঠবে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া যত তাড়াতাড়ি আমাদের কাছে আনবে তত ভালো। আমরা আগেও বলেছি, চামড়া কেনার সময় যেন ভেবেচিন্তে কেনেন আড়তদাররা। চামড়ার মান বুঝে সরকার নির্ধারিত মূল্যে আমরা দাম দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত দামে লবণযুক্ত চামড়া ৫০ থেকে ৫৫ টাকা প্রতি বর্গফুট হিসেবে ফড়িয়াদের কাছ থেকে কেনা হচ্ছে। এখন যেসব চামড়া আসছে সেগুলো লবণ ছাড়া, সেজন্য এসব চামড়া প্রতি বর্গফুট ৫ থেকে ১০ টাকা কমে কিনছি। এসময়ে যারা চামড়া আড়তে আনতে পারবেন না, তারা যেন লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করেন। নয়তো গরমে চামড়া নষ্ট হতে পারে।’

এ বছর কোরবানির পশুর লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুটে গত বছরের চেয়ে ৩ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। ঢাকার বাইরের চামড়ার দাম বাড়ানো হয়েছে ৫ টাকা। আর খাসি ও বকরির চামড়ার দাম গত বছরের মতোই রাখা হয়েছে। ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পোস্তার রবিন আড়তের ম্যানেজার মতিউর রহমান বলেন, ‘গতকাল দুপুরের পর থেকে মূলত চামড়া আসা শুরু হয়েছে। তবে মূল বেচা বিক্রি হয়েছে রাতে। এখনে চামড়া সংগ্রহের পর প্রথমে লবণজাত করা হবে। পরে সাভারের ট্যানারিগুলোতে পাঠানো হবে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) মহাসচিব টিপু সুলতান বলেন, ‘চামড়া কিনতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া যত তাড়াতাড়ি আমাদের কাছে আনবেন তত ভালো। চলতি বছর সরকার রাজধানীতে লবণযুক্ত চামড়া ৫০ থেকে ৫৫ টাকা বর্গফুট নির্ধারণ করেছে। এখন যেসব চামড়া আসছে সেটা লবণ ছাড়া, সেজন্য এ চামড়ার দাম প্রতি ফুট লবণযুক্ত চামড়া থেকে ৫ থেকে ৮ টাকা কমে কিনছে। নাহলে গরমের কারণে চামড়া নষ্ট হতে পারে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘এ বছর ট্যানারি ব্যবসায়ীরা যদি দাম কমানোর জন্য কোনো ফন্দি করে তাহলে আমরা চামড়া বিদেশে রপ্তানির অনুমতি দেবো। আমরা চাই, না সেটা হোক। এ বছরও আমাদের ঘোষণা হলো, কারসাজির মাধ্যমে দাম কম নেওয়া, দেওয়া বা চামড়া না নেওয়ার চেষ্টা করলে আমরা ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমোদন দেবো।’

About bdpratinioto

Check Also

রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় বাড়লেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *