রেজিস্ট্রি কমপ্লেক্সের দুর্নীতি পর্ব ১ নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা।:রাজধানীর তেজগাঁও সাব-রেজিস্টার কমপ্লেক্স। যেখানে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস আর হাহাকার এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। অভিযোগ উঠেছে, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের হাতে কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে পুরো অফিস। ঘুষ, দুর্নীতি আর ফাইল আটকে রাখার মহোৎসবে একদিকে সাধারণ মানুষ যেমন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। এই অনিয়মের নেপথ্যে উঠে এসেছে এক অসাধু কর্মচারীর নাম, যার সম্পদের পাহাড় দেখে খোদ এলাকাবাসীও হতবাক। বিস্তারিত থাকছে প্রতিবেদনে।
জমির দলিল কিংবা রেজিস্ট্রেশন— সাধারণ মানুষের কাছে এই সেবাগুলো এখন এক আতঙ্কের নাম। রাজধানীর তেজগাঁও সাব-রেজিস্টার কমপ্লেক্সে পা রাখলেই চোখে পড়ে দালাল আর সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। অভিযোগ রয়েছে, একটি অসাধু চক্রের ইশারা ছাড়া এখানে একটি ফাইলও নড়ে না। ভুক্তভোগীদের দাবি, অতিরিক্ত অর্থ না দিলে দিনের পর দিন ফাইল আটকে রাখা হয়। কখনও দলিল প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিক বিলম্ব, আবার কখনও ভলিউম বইয়ের পাতা ছেঁড়ার মতো গুরুতর অনিয়ম এখন এখানে ওপেন সিক্রেট। এই সিন্ডিকেটের কলকাঠি নাড়ার পেছনে মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে উত্তরা সাব-রেজিস্টার অফিসের কর্মচারী মোঃ শহিদ হোসেনের নাম। অভিযোগ আছে, তেজগাঁও কমপ্লেক্সে তার একক আধিপত্যের কথা। সাধারণ এক কর্মচারী হয়েও গত এক দশকে তিনি গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়,
রাজধানীর উত্তরায় আলিশান বাড়ি, সিদ্ধিরগঞ্জে স্থাবর সম্পত্তি, বন্দরে বিশাল অট্টালিকা, এমনকি ময়মনসিংহে ব্যক্তিগত রিসোর্ট। শুধু তাই নয়, নিজ গ্রামে শত শত একর জমি কিনেছেন তিনি। এলাকাবাসীর প্রশ্ন— একজন সামান্য সরকারি কর্মচারীর এত বিপুল অর্থের উৎস কী?
সেবা নিতে আসা এক ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা এখানে সেবা নিতে আসি, কিন্তু পদে পদে হয়রানি হতে হয়। টাকা না দিলে কাজ হয় না, এমনকি কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।”শুধু দুর্নীতিই নয়, সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা না দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ দলিল গায়েব করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। এতে একদিকে সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বিশাল অংকের রাজস্ব থেকে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হোক এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে সরকারি অফিসের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা হোক। দুর্নীতির এই জাল ছিঁড়ে কবে মুক্তি পাবে তেজগাঁও সাব-রেজিস্টার কমপ্লেক্স? এখন এটাই দেখার বিষয়।
Bangladesh Pratinioto news site