Related Articles
নিজস্ব প্রতিবেদক শাহাবুদ্দিন আকাশ;নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, নির্মাণকাজে বাধা, চাঁদা দাবি এবং দীর্ঘদিন ধরে হুমকি-হামলার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী জমির মালিক।
বুধবার (৩ জুন) দুপুর ২টায় সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার মিতালী মার্কেটস্থ ট্রেড সেন্টার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে তারা তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, তারা দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি স্থানীয় আবু ছাহেদ ও তার সহযোগীরা ওই জমির মালিকানা দাবি করে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, মানবিক কারণে প্রথমে কিছু যন্ত্রপাতি সাময়িকভাবে জমিতে রাখার অনুমতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে সেটিকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। এরপর অভিযুক্ত পক্ষ জমির মালিকানা দাবি করে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি এবং জমি দখলের চেষ্টা চালাতে থাকে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, আব্দুস সাত্তারের মেয়ের জামাতা সেনাবাহিনীর একজন মেজর হওয়ায় বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনীর নাম ব্যবহার করে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট জমি থেকে চার শতাংশ জমি মসজিদের জন্য দান করা হয়েছিল বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, মসজিদ নির্মাণের সময় আব্দুস সাত্তার ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি রাতের আঁধারে মসজিদের দেয়াল ভেঙে দেন।
ভুক্তভোগীরা আরও বলেন, অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তাদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছেন। চাঁদার দাবি পূরণ না করায় জমিতে কাজ করতে বাধা দেওয়া, হামলার হুমকি প্রদান এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। উপস্থিত ভুক্তভোগীরা বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান চান এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
একই সঙ্গে তারা প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
ভুক্তভোগীরা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের সুষ্ঠু সমাধান হবে এবং তারা নিরাপদে নিজেদের সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারবেন।
উল্লেখ্য,এলাকার জনপ্রিয় কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন এই জমি-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ের সঙ্গে জড়িত নন। ভুক্তভোগীরা যখন উক্ত জমিতে কাজ করেছেন, সে বিষয়েও তিনি অবগত ছিলেন না। কিন্তু সাত্তার ও তার সহযোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক এবং কয়েকটি স্থানীয় অনলাইন সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে আসছেন।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, “আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার ব্যক্তিগত ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। পাশাপাশি যারা মিথ্যা সংবাদ ও অপপ্রচার ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলাও দায়ের করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সত্যকে আড়াল করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং আমার সম্মানহানি করার যে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে, তার যথাযথ আইনি জবাব দেওয়া হবে।”
তবে এটি প্রকাশ বা প্রচারের আগে নিশ্চিত হওয়া উচিত যে উল্লিখিত অভিযোগ ও তথ্যগুলো সত্য এবং প্রমাণযোগ্য, যাতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃতভাবে মানহানিকর বক্তব্য না যায়।
Bangladesh Pratinioto news site