Most Recent Post
Home / সারাদেশ / সাঁথিয়ার তলট জমিদারবাড়ির ধ্বংসাবশেষ কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

সাঁথিয়ার তলট জমিদারবাড়ির ধ্বংসাবশেষ কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

এম এ হাই,সাঁথিয়া(পাবনা) প্রতিনিধি : সাঁথিয়ার তলট জমিদারবাড়ির ধ্বংসাবশেষ
কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পাবনার সাঁথিয়ার তলট গ্রামে ঐতিহ্যবাহী দু’টি জমিদার পরিবার ছিলো। রাধারমণ সাহার ‘পাবনা জেলার ইতিহাস’ গ্রন্থে জানা যায়, তলট গ্রামের গিরিধর রায় ছিলেন রাজশাহী আদালতের মোক্তার। তিনিই এই জমিদারি লাভ করেন। তার ছেলে শশধর রায় প্রথমে রাজশাহী আদালতে ও পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টে দীর্ঘবছর ওকালতি করেন। তিনি সাহিত্যিক,সম্পাদক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।অনুসন্ধানে জানা গেছে,শশধর রায়ের দুইপুত্র ও এক মেয়ে ছিল। শশধর রায়ের বড় ছেলে ভবেশ রায় ১৯৪৬ সালে ভারতের মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থানার বলরামপুর গ্রামে গিয়ে বসবাস শুরু করেন। তার চার ছেলে ও এক মেয়ে ছিল। তারা হচ্ছেন পরেশ রায় (মন্টু), নরেশ রায় (ঝন্টু), ময়না রায়, রঞ্জন রায় ও মেয়ে সাধনা রায়। তার বংশধররা এখনো সেখানেই বসবাস করেন।একই সময়ে শশধর রায়ের ছোট ছেলে প্রফুল্ল রায় রাজবাড়ির পাংশায় গিয়ে বসতিস্থাপন করেছিলেন। তার তিন ছেলে ছিল৷ তারা হচ্ছেন গোবিন্দ রায়,গোপাল রায় ও গৌতম রায়। শশধর রায়ের একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়েছিল সাটিয়াকোলার জমিদার কাশিনাথ রায়ের ছেলে বীরেন রায়ের সাথে।

তবে দু:খজনকভাবে শশধর রায়ের বংশধরদের কারও সাথে কারও যোগাযোগ নেই। মুর্শিদাবাদে বসবাসরত ভবেশ রায়ের নাতী রাজকুমার রায় তাদের বংশধরদের সাথে যোগাযোগের তীব্র ইচ্ছে ব্যক্ত করেছেন।তলট গ্রামে চন্দ্রনাথ রায় নামে আরও একজন জমিদার ছিলেন। তার ছেলে শৈলেন্দ্রনাথ রায় এলাকায় ভোলাবাবু নামে পরিচিত ছিলেন। চন্দ্রনাথ রায়ের বিশাল পুকুর এখনো রয়েছে। তবে শানবাঁধা ঘাট ভেঙ্গচুরে গেছে। পাকা ঘাটের যৎসামান্য ধ্বংসাবশেষ বিদ্যমান আছে। এটি রক্ষা করা দরকার।

তলট ও করমজার জমিদারদের মধ্যে পুজা,মেলা,পার্বণ নিয়ে প্রতিযোগিতা চলতো। কে কার চেয়ে বড় পুজা,বড় মেলার আয়োজন করতে পারে?

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তলটে রথযাত্রা,চড়ক পূজা জাকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হতো। বাড়িটিতে বসবাসকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম বাচ্চু জানান, আগে এই বাড়িটিতে ১০ টি বিল্ডিং ছিলো। বর্তমানে পুরোনো বিল্ডিং একটাও নেই। শুধুমাত্র প্রাচীন নিত্যানন্দ মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ মঠের কিছু অংশ রয়েছে। মন্দিরটি রক্ষা করা দরকার। সে সময়ের পুকুরগুলো এখনো রয়েছে। বিশাল বাড়িটিতে কয়েকটি হিন্দু-মুসলিম পরিবার বসবাস করছে।

About bdpratinioto

Check Also

বেনাপোল ছোট আঁচড়া গ্রামের ইউনুস হত্যায় এবার সোহেল রানা আটক

মনির হোসেন, বেনাপোল প্রতিনিধি-বেনাপোলে ইউনুস আলী (নিরাপত্তাকর্মী) হত্যা মামলায় আরও এক আসামিকে আটক করেছে পিবিআই ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *