হবিগঞ্জে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরায় পুলিশকে চাকুরী খেয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ
Posted By :
bdpratinioto
জুন ১২, ২০২৬
সারাদেশ, সিলেট বিভাগ
15 Views
হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুরে আদালতের পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হুমকির শিকার হয়েছে পুলিশ।এ ঘটনায় তেলিয়াপাড়া(হরষপুর) পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এ এস আই) শহিদুল ইসলাম একটি জিডি এন্ট্রি করেছে বলে পুলিশ সূত্র নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া একটি মারামারির মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা হারুন মিয়াকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গ্রেপ্তার করে হরষপুর (তেলিয়াপাড়া) পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এ এস আই) শহিদুল ইসলাম। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর হারুন মিয়াকে ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হলে দুপুর ১টার দিকে শাহজাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলফাজ মিয়া ফাঁড়িতে আসে। পুলিশ ফাঁড়িতে এসে এএসআই শহিদুল ইসলামকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে।এক পর্যায়ে পুলিশের চাকুরী খেয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আলফাজ মিয়া পুলিশের সাথে উচ্চবাচ্য শুরু করে। উচ্চ স্বরে বলতে শুনা গেছে শাহজানপুরে কোন আসামী গ্রেপ্তার করার আগে তাঁকে জানানো উচিত ছিল। একপর্যায়ে তিনি পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের সাথে বাকবিতণ্ডা ও হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করে তবে শাহজাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আলফাজ মিয়ার জানান, দলীয় কর্মিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল, আমি পুলিশকে অনুরোধ করেছি যেন দ্রুত কোর্টে প্রেরন করে।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, “ফাঁড়িতে এসে আলফাজ মিয়া নিজেকে বিএনপির নেতা পরিচয় দিয়ে বলেন, তাঁর এলাকায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে হলে আগে তাঁকে জানাতে হবে। ঘটনাটি লিখিতভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ী নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলফাজ মিয়ার বিরুদ্ধে অতীতেও অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ওই অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।পুলিশ বলছে, আদালতের পরোয়ানা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে।
২০২৬-০৬-১২