Most Recent Post
Home / ঢাকা বিভাগ / সহকারী শিক্ষককে বিয়ের নোটিশ দিলেন প্রধান শিক্ষক

সহকারী শিক্ষককে বিয়ের নোটিশ দিলেন প্রধান শিক্ষক

বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত ডেস্ক: টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সাজানপুর উচ্চবিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষককে নোটিশ দিয়েছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক। এতে তিনি ওই শিক্ষককে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে বিয়ে করতে বলেছেন। এই নোটিশকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় চলছে।
Google news

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর সহকারী শিক্ষক পদে ওই বিদ্যালয়ে যোগ দেন গোপালপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা রনি প্রতাপ পাল। এ বছরের (২০২৩) ২৬ জুলাই তাকে নোটিশ দিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।

নোটিশে বলা হয়, ‘বিদ্যালয়ে যোগদানের পর আপনাকে বারবার মৌখিকভাবে তাগিদ দিয়েছি বিবাহ করার জন্য। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয়, কয়েক বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও আপনি বিবাহ করেননি। বিদ্যালয়টিতে সহশিক্ষা চালু রয়েছে। অভিভাবকগণ অবিবাহিত শিক্ষক নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। সুতরাং বিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে নোটিশপ্রাপ্তির ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে বিবাহের কার্য সম্পন্ন করে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য আপনাকে বিশেষভাবে পাক্কা নির্দেশ প্রদান করা হলো।’

নোটিশ পাওয়ার দুই দিন পর শিক্ষক রনি প্রতাপ প্রধান শিক্ষককে লিখিত জবাব দেন। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার অভিভাবকেরা আমার বিয়ের চেষ্টা করছেন। কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুদের বিয়ের পাত্রপাত্রী বাছাইয়ে গাত্র বা বর্ণের বিষয় রয়েছে। তা ছাড়া হিন্দুধর্মাবলম্বীরা শ্রাবণ থেকে কার্তিক পর্যন্ত বিয়ে করাটা শুভ মনে করে না। সুতরাং পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতির কারণে আগামী অগ্রহায়ণ মাসে আমার অভিভাবকেরা আমাকে বিবাহ করাবেন বলে জানিয়েছেন।’

রনি প্রতাপ জানান, জবাব দেওয়ার পরও প্রধান শিক্ষক তাকে নানাভাবে মানসিক যন্ত্রণা দিতে শুরু করেন। পরে বিষয়টি তার অন্য সহকর্মী এবং অন্যান্যদের জানান।

এদিকে, হয়রানির ভয়ে রনি প্রতাপ গত ৩০ জুলাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে প্রধান শিক্ষকের নোটিশের বিষয়টি জানান। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি অবিবাহিত থাকলেও কোনো অভিভাবক বা শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেনি। কিন্তু বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলামের স্বাক্ষর জাল করে চেকের মাধ্যমে স্কুলের বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে সরকারি তদন্তে যাতে তিনি (রনি) সাক্ষ্য না দেন, সেজন্য তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।’

স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন জানান, রনি প্রতাপ ভালো শিক্ষক। তাকে নিয়ে কেউ কখনো কোনো প্রশ্ন তোলেননি। অথচ দুটি সরকারি তদন্তে মিথ্যা সাক্ষী দিতে না চাওয়ায় প্রধান শিক্ষক তাকে এমন একটি নোটিশ দিয়ে হয়রানি করছেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘রনি প্রতাপের স্বভাব চরিত্র নিয়ে স্কুল সংশ্লিষ্ট কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তবে সহশিক্ষা চলমান রয়েছে। এমন প্রতিষ্ঠানে কোনো অবিবাহিত শিক্ষক থাকলে নানা অসুবিধা হতেই পারে। নানা অনৈতিক কিছু ঘটতেও পারে। এজন্য তাকে দ্রুত বিয়ে করার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজনীন সুলতানা বলেন, ঘটনাটি খুবই লজ্জাজনক। এভাবে নোটিশ করার এখতিয়ার কোনো প্রধান শিক্ষকের নেই।

তিনি জানান, মঙ্গলবার তিনি বিদ্যালয়টিতে সরেজমিনের গিয়েছিলেন। এই নোটিশ দেওয়ার ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক কোনো উত্তর দিতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে কয়েক বছরের। এটি তদন্তের জন্য সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে আহ্বায়ক এবং অন্য দুইটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে সদস্য সচিব করে একটি তদন্ত কমিটির প্রস্তাব করা হবে।

সরকারি এমএম আলী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শামসুল হুদা বলেন, বিয়ে করা না করা মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার। প্রধান শিক্ষক রনি প্রতাপ পালকে বিয়ে করার জন্য যে নোটিশ দিয়েছেন তা মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। এমন নোটিশ দেওয়া অনৈতিক।

About bdpratinioto

Check Also

আমতলীতে যুবলীগ কর্মীর হাতে ছাত্রদল নেতা আহত হওয়ায় জড়িতদের বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ।

আসাদুজ্জামান,আমতলী(বরগুনা)প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে এক ছাত্রদল কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা ছাত্রদলের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *