বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত ডেস্ক: চারজনের সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বিল্লাল হোসেন। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেও সংসারের অভাব দূর করতে পারছিলেন না তিনি। বাড়তি উপার্জনের আশায় ছুটির দিনে ভাড়ায় মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন করতেন বিল্লাল। শুক্রবার (২৬ মার্চ) বায়তুল মোকাররমের কাছে মোটরসাইকেলটি রেখে ওই মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যান তিনি। নামাজ শেষে এসে দেখেন ঋণের টাকায় কেনা সেই মোটরসাইকেলটি আগুনে পুড়ে গেছে।
বিল্লাল হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘একটি কোম্পানিতে সেলস রিপ্রেজেন্টিটিভ হিসেবে চাকরি করি। এতে যে উপার্জন হয় তা দিয়ে চার সদস্যের পরিবার চলছিল না। এ কারণে বন্ধের দিনে পাঠাও-উবার চালাই। এতে পরিবারের কিছুটা হলেও সচ্ছলতা ফিরেছিল। আরও ভালো উপার্জনের স্বপ্ন ছিল। আজ মোটরসাইকেলটি পুড়ে যাওয়ায় আমার সব স্বপ্নও পুড়ে গেলো। এর দায় কে নেবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি সমিতি থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মোটরসাইকেলটি কিনেছিলাম। প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে ৪৮ কিস্তি পরিশোধ করেছি। এখনও বেশিরভাগ টাকা পরিশোধ হয়নি। এখন ঋণ পরিশোধ এবং সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেলো। আমি তো রাজনীতি করতে আসিনি। তাহলে কেন আমি এই ক্ষতির সম্মুখিন হবো?’
এ বিষয়ে শুক্রবার রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ নূরুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ‘একটি নয়, তিনটি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা। মোটরসাইকেলগুলোর ইন্সুরেন্স থাকলে ক্ষতিপূরণের জন্য আমরা আইনানুগ সহযোগিতা করব।’
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে শুক্রবার (২৬ মার্চ) জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম এলাকায় ইসলামী ও সমমনা দলগুলো বিক্ষোভ মিছিল বের করতে চায়। পুলিশ তাতে বাধা দিলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। প্রায় ৩ ঘণ্টার সংঘর্ষে সাংবাদিক, পুলিশ, মুসল্লিসহ প্রায় ৭০ জন আহত হন।
Bangladesh Pratinioto news site