Most Recent Post
Home / আইন আদালত / বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ৩ বছর: বিচারের আশায় স্বজনরা

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ৩ বছর: বিচারের আশায় স্বজনরা

আাইন আদালত ডেস্ক: তিন বছর আগে এই দিনে বুড়িগঙ্গায় ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যায় মর্নিং বার্ড নামের একটি লঞ্চ। এতে মর্নিং বার্ডের ৩৪ যাত্রী মারা যান। এ ঘটনায় ময়ূর-২ লঞ্চের মালিকসহ সাত জনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করে নৌ-পুলিশ। মামলাটি তদন্ত করে গত বছর ১১ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়। মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, আলোচিত মামলাটির বিচার এ বছর শেষ হবে। এদিকে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক সাজার অপেক্ষায় পরিবারগুলো।

মামলাটি বর্তমানে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এ. এইচ. এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার আদালতে বিচারাধীন। সর্বশেষ গত ৬ জুন মামলাটির তারিখ ধার্য ছিল। ওই দিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদরঘাট নৌ-থানা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর শহিদুল আলম সাক্ষ্য দেন। এরপর দুই সাক্ষীকে পুনরায় জেরা করার আবেদন করা হয় আদালত তা মঞ্জুর করেন। আগামী ২০ জুলাই মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।

মামলা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিমল সমাদ্দার বলেন, এটা একটি চাঞ্চল্যকর মামলা। মামলাটি নিয়ে আমরা খুব সিরিয়াস। মামলাটি যেন দ্রুত শেষ করা যায় আমরা সেই চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে ৪২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণের শেষ পর্যায়ে এসে দুইজন সাক্ষীকে জেরার আবেদন করা হয়েছে। দুই সাক্ষীকে জেরা শেষে আত্মপক্ষ শুনানি, এরপর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে। তারপর আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করবেন।

মামলা বিচার বিলম্ব হওয়ার কারণ জানতে চাইলে এ আইনজীবী বলেন, সাক্ষীরা ঠিকমত আসে না। আবার এসেও ঠিকমত সাক্ষী দেয় না। এজন্য কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে মামলা শেষে পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। আশা করছি, এবছর মামলার বিচার শেষ হবে। ভূক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায় বিচার পাবে।

তিনি বলেন, সাক্ষ্যে একটা বিষয় মোটামুটি উঠে এসেছে ময়ূর-২ লঞ্চটি দ্রুত গতিতে ঘাটে যাওয়ার সময় মর্নি বার্ডকে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা দিছে। এ কারণে এতগুলো প্রাণ গেছে। একজন সাক্ষী আদালতে বলেছে, ময়ূর-২ লঞ্চের সুকানীকে বলেছিল লঞ্চটি সরিয়ে নিতে। কিন্তু তার কথায় কর্ণপাত করেনি। মোটামুটি সাক্ষ্যে উঠে এসেছে আসামিদের অপরাধ। আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিতের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে কাজ করে যাচ্ছি।

মামলা সম্পর্কে জানতে ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ ছোয়াদের আইনজীবী সুলতান নাসেরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব‌্য করেননি।

২০২০ সালের ২৯ জুন মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে মর্নিং বার্ড নামের একটি লঞ্চ সদরঘাটে পৌঁছানোর আগে চাঁদপুরগামী ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যায়। দুর্ঘটনায় মর্নিং বার্ডের ৩৪ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পরের দিন ৩০ জুন রাতে নৌ-পুলিশের সদরঘাট থানার এসআই মোহাম্মদ শামসুল বাদী হয়ে অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগ এনে ময়ূর-২ লঞ্চের মালিকসহ সাত জনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সদরঘাট নৌ-থানা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর শহিদুল আলম ১১ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। গত বছর ১৮ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

আসামিরা হলেন- ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ ছোয়াদ, মাস্টার আবুল বাশার মোল্লা, সহকারী মাস্টার জাকির হোসেন, চালক শিপন হাওলাদার, শাকিল হোসেন, সুকানি নাসির হোসেন মৃধা, গিজার হৃদয় হাওলাদার, সুপারভাইজার আব্দুস সালাম, সেলিম হোসেন হিরা, আবু সাঈদ ও দেলোয়ার হোসেন সরকার। আসামিরা সবাই উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

About bdpratinioto

Check Also

বিচারপতি মামনুন রহমান ও নাইমা হায়দারের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি নাইমা হায়দারের পদত্যাগপত্র ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *