জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান লোডশেডিং এবার রাজধানী ঢাকাতেও পরীক্ষামূলকভাবে চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু এলাকায় ইতোমধ্যেই লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সহনীয় রাখতে এবং গ্রাম-শহরের বিদ্যুৎ বৈষম্য কমাতে রাজধানীতেও সীমিত আকারে লোডশেডিং চালু করা হবে।
তিনি বলেন, “শহরের মানুষ আরামে থাকবে আর গ্রামের মানুষ কষ্টে থাকবে—এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।” প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ করা যাচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে।
এদিকে কৃষি খাতে সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ডিজেল সরবরাহে গুরুত্ব দিচ্ছে। চলমান ফসল কাটার মৌসুমে কৃষকদের সহায়তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, কাগজে-কলমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বেশি থাকলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত গ্যাস আমদানি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় এ খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে রাজধানীবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে এটি একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।
Bangladesh Pratinioto news site