আগস্টেই গ্রিডে যুক্ত হতে পারে ৩০০ মেগাওয়াট, পূর্ণ সক্ষমতায় ২৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক:
পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে প্রথমবারের মতো ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানো হয়েছে। জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়ার পর ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হবে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের আগস্ট নাগাদ জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হতে পারে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, এটি দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে শিল্প খাতে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা, আন্তর্জাতিক অংশীদার এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। রাশিয়ার সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাও নিরাপত্তা তদারকিতে যুক্ত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, চুল্লিতে ইউরেনিয়াম প্রবেশের পর নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন হবে। সেই তাপে পানি বাষ্পে রূপান্তরিত হয়ে টারবাইন ঘোরাবে এবং সেখান থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই বিদ্যুৎ প্রকল্পে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। উভয় ইউনিট চালু হলে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, যা দেশের বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের স্বস্তি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলে অদূর ভবিষ্যতেই বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।
Bangladesh Pratinioto news site