বান্দরবান প্রতিনিধি: ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশের পর্যটন স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা বান্দরবান। তবে, এবার ঈদের ছুটিতে অনেকটাই পর্যটকশূন্য বান্দরবান। হোটেল, রেস্তোরাঁ ও রিসোর্টগুলো বেশিরভাগই ফাঁকা পড়ে আছে।
পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ১৫ শতাংশ পর্যটকও বান্দরবান ভ্রমণে আসেননি। যারা এসেছেন তারা আশপাশের জেলার। ঢাকা ও বাইরের জেলার পর্যটক খুবই কম।
তারা মনে করেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় পর্যটকরা বান্দরবানে আসছেন না।
ব্যবসায়ীদের দাবি, ওই তিন উপজেলায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বান্দরবান সদরের আশেপাশের সব স্পট, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় নিরাপদে ভ্রমণ করা যাচ্ছে।
মেঘলা পর্যটন স্পটের টিকিট বিক্রেতা সুকুমার তংচংঙ্গা জানান, এ বছর ঈদের ছুটিতে তেমন পর্যটক বান্দরবানে আসছেন না। অন্য বছর এমন দিনে প্রতিদিন গড়ে ৫-৬ হাজার টিকিট বিক্রি হলেও আজ মাত্র পাঁচশ টিকিট বিক্রি হয়েছে। নীলাচলের টিকিট বিক্রেতা আদিব বড়ুয়াও এমন তথ্য জানিয়েছেন।
হোটেল হিল্টনের ম্যানেজার আক্কাস উদ্দিন জানান, সাধারণ ছুটির দিন ও ঈদের ছুটির অন্তত ১৫ দিন আগে হোটেলের সব কক্ষ বুকিং হয়ে যেত। গত ঈদেও পর্যটকের ভালো সাড়া মিলেছিল। কিন্তু এবার তেমন সাড়া নেই। হোটেলের ১১৫টি কক্ষের মাত্র ১৫টি বুকিং হয়েছে।
হোটেল হিল ভিউর ম্যানেজার তৌহিদ পারভেজ জানান, সারাবছর ঈদ মৌসুমে ব্যবসার জন্য পর্যটন ব্যবসায়ীরা অপেক্ষায় থাকেন। অন্যান্য বছর ঈদের ছুটিতে হোটেলের কক্ষ শতভাগ বুকিং হয়ে গেলেও এ বছর ১০ শতাংশও বুকিং হয়নি।
তিনি বলেন, ‘বান্দরবানের তিন উপজেলায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় পর্যটকরা বান্দরবান ভ্রমণে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েছেন। ফলে জেলার পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখে পড়েছেন।’
উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে বান্দরবানের রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় নিরাপত্তাজনিত কারণে অনির্দিষ্টকালের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেয় স্থানীয় প্রশাসন।
Bangladesh Pratinioto news site