Most Recent Post
Home / ঢাকা বিভাগ / টাঙ্গাইলে বাড়ছে ডেঙ্গু, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

টাঙ্গাইলে বাড়ছে ডেঙ্গু, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের পিচুরিয়া গ্রামের গৃহবধূ শেফালি বেগম (৩৫)। গত এক মাস রাজধানী ঢাকা ও টাঙ্গাইল শহরেও যাতায়াত করেননি। বাড়ির বাইরে বের না হলেও গত সাত দিন ধরে তিনি ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি শেখ হাসিনা মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শেফালি বেগম বলেন, গত ২০ জুলাই তিনি জ্বরে আক্রান্ত হই। পরে বাড়ির পাশে পল্লী চিকিৎসকের কাছ থেকে ওষুধ কিনে খাই। তারপরও সুস্থ না হওয়ায় ২৩ জুলাই টাঙ্গাইলের শেখ হাসিনা মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হই। বর্তমানে কিছুটা সুস্থ আছি।

টাঙ্গাইলের প্রত্যন্ত গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। হাসপাতাল থেকে কাঙ্খিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

তাদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির পর ডেঙ্গু পরীক্ষা, ওষুধ ও স্যালাইন বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। জেলা সিভিল সার্জন জানিয়েছে, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ বরাদ্দ আছে এবং পরীক্ষাও হাসপাতাল থেকেই করা হয়।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে বুধবার পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা ২৮১ জন। সুস্থ হয়েছেন ২১৯ জন। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৬২ জন। এর মধ্যে শেখ হাসিনা মেডিক‌্যাল কলেজ হাসপাতালে নয় জন, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই জন করে, মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ জন ও গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক জন রোগী ভর্তি রয়েছে।

শেফালি বেগম অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রায় চার হাজার টাকা ওষুধ কিনতে হয়েছে। পরীক্ষা বাইরে থেকে করতে হচ্ছে।
পিচুরিয়া গ্রামের শাহজাহান মিয়া বলেন, আগে জানতাম ঢাকায় ডেঙ্গু হয়। বর্তমানে আমাদের গ্রামের কয়েকজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। আমরা সাধারণ মানুষ খুব আতঙ্কে আছি।

দেলদুয়ারের ছাবিহা আক্তার নামে এক কলেজছাত্রী বলেন, এক সপ্তাহ আগে আমার ডেঙ্গু পজিটিভ হয়। দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তেমন কোনো সেবা পাইনি।

তার মা হালিমা বেগম বলেন, সরকারি হাসপাতালে মেয়েকে ভর্তি করানো হলেও সব পরীক্ষা ও বেশির ভাগ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে।

এলাসিন গ্রামের মো. ইব্রাহিম বলেন, দিন দিন গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু। শহর পর্যায়ে মশক নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও গ্রাম পর্যায়ে তা করা হচ্ছে না। তাই গ্রাম পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এ সব ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার ডেঙ্গু রোগী শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি না ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছি তা কিছু বুঝতেছি না। হাসপাতাল থেকে কোনো প্রকার ওষুধ দেওয়া হয় না।

টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মো. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া বলেন, হাসপাতাল থেকেই সব ওষুধ ও পরীক্ষা করার কথা। তারপরও যদি বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয় ও পরীক্ষা করানো হয়, তাহলে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন এবং জমানো পানি পরিষ্কার রাখতে হবে। যাতে করে ডেঙ্গু বিস্তার করতে না পারে। প্রয়োজনে রাতে ঘুমানোর সময় কয়েল কিংবা মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতে হবে।

টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর বলেন, মশক নিধনের প্রচেষ্টা আমাদের অব্যাহত আছে। এলাকায় এলাকায় সচেতনা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এছাড়া মশা মারতে ওষুধ ছিটানোসহ স্প্রে করা হচ্ছে। অপর দিকে এডিস মশার লার্ভা খোঁজার জন্য আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে।

About bdpratinioto

Check Also

ঘনিয়ে আসছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: সরিষামুড়িতে চেয়ারম্যান পদে আগ্রহ প্রকাশ আবু জাফর আব্দুল্লাহর, বাড়ছে নির্বাচনী আলোচনা

বরগুনা জেলা প্রতিনিধি: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনার বেতাগী উপজেলার ৭ নম্বর সরিষামুড়ি ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *