Most Recent Post
Home / Uncategorized / জলবায়ু পরিবর্তন এখন দেশের উপকূলে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তীব্র তাপপ্রবাহ, লবণাক্ততা, দূষিত পানি ও নতুন নতুন রোগে বিপর্যস্ত উপকূলের জনজীবন

জলবায়ু পরিবর্তন এখন দেশের উপকূলে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তীব্র তাপপ্রবাহ, লবণাক্ততা, দূষিত পানি ও নতুন নতুন রোগে বিপর্যস্ত উপকূলের জনজীবন

মোঃ আলফাত হোসেন:

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল আজ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি। একসময় যে উপকূল ছিল জীবিকা, কৃষি ও মৎস্য সম্পদের ভরসাস্থল, আজ সেই অঞ্চল ক্রমশ পরিণত হচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকির এক উদ্বেগজনক ভূখণ্ডে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার বিস্তার মানুষের জীবনযাত্রাকে যেমন বিপর্যস্ত করছে, তেমনি বাড়িয়ে তুলছে নানা ধরনের রোগব্যাধি।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান অতিরিক্ত গরম ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম দৃশ্যমান প্রভাব। গত কয়েক বছরে রেকর্ড পরিমাণ তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, জেলে, শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। প্রচণ্ড গরমে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা, দুর্বলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে আশঙ্কাজনকভাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের মতো গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার, বন উজাড়, শিল্পায়ন ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন এই সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
দূষিত পানি ও জলবাহিত রোগ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা ও জলাবদ্ধতা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপদ পানির সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে সুপেয় পানির উৎস নষ্ট হচ্ছে। ফলে কলেরা, টাইফয়েড, ডায়রিয়া ও বিভিন্ন পেটের রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।নিরাপদ পানি ব্যবহার, পানি ফুটিয়ে পান করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে এসব রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার

তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও আর্দ্র আবহাওয়া মশার বংশবৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে। এর ফলে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়ার মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে। এখন গ্রামাঞ্চলও এসব রোগের ঝুঁকির বাইরে নয়।বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং মশারি ব্যবহারে সচেতন হওয়া জরুরি।বাড়ছে শ্বাসতন্ত্রের রোগ বায়ুদূষণ, ধুলাবালি ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস ও অ্যালার্জিজনিত রোগের সংখ্যা বাড়ছে। দীর্ঘদিনের শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

মানসিক স্বাস্থ্যও ঝুঁকিতে ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, ফসলহানি, জীবিকা সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উদ্বেগ, হতাশা ও মানসিক চাপ এখন উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে।বিশ্বখ্যাত স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণা উদ্যোগ ল্যানসেট কাউন্টডাউন-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মেরিনা রোমানেলোর মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তোলার মাধ্যমেই জলবায়ু পরিবর্তনের গতি কমানো সম্ভব।

এখনই উদ্যোগ নেওয়ার সময় জলবায়ু পরিবর্তন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়; এটি আজকের বাস্তবতা। বিশেষ করে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এটি একটি বড় স্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা তৈরির মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।অন্যথায় জলবায়ু পরিবর্তনের এই নীরব বিপর্যয় আগামী প্রজন্মের জন্য আরও ভয়াবহ স্বাস্থ্য ও মানবিক সংকট ডেকে আনবে।

About bdpratinioto

Check Also

নওগাঁ জেলার নওহাটা পুলিশ ফাঁড়ি আকস্মিক পরিদর্শন করলেন নওগাঁর পুলিশ সুপার

মোঃ মমিন আলী নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মহোদয় ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *